কিভাবে SEO আর্টিকেল লিখতে হয়
বর্তমান সময়ে অনলাইন থেকে আয় করার জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো আর্টিকেল রাইটিং
। শুধু লিখতে চাইলেই ভালো আর্টিকেল লিখা যায় না । বরং সঠিক গাইডলাইন
অনুসরণ করে তথ্যগুলো সাজিয়ে ভালোভাবে উপস্থাপনা ।
শুধুমাত্র একটি সঠিক গাইডলাইন মেনে সহজেই মানসম্মত আর্টিকেল লিখা সম্ভব । তাই
কিভাবে একটি মানসম্মত আর্টিকেল লিখবেন এটা জানার প্রয়োজন । মানসম্মত একটি
আর্টিকেল লেখার জন্য আমাদের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন ।
পেজ সূচিপত্রঃ কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়
- আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম কিভাবে লিখতে হয়
- আর্টিকেলের শুরুতে ভূমিকা বাটন কেন ব্যবহার করবেন
- আর্টিকেলের ম্যাটার ডেসক্রিপশন কি এবং কতটুকু লিখবেন
- আর্টিকেলের পেজ সূচিপত্র সাজানোর নিয়ম
- আর্টিকেলের হেডিং সাজানোর নিয়ম
- আর্টিকেলের প্রতিটি প্যারা কিভাবে লিখবেন এবং কত লাইন লিখবেন
- কিভাবে পোস্ট ফরমেটিং করবেন
- আর্টিকেল শেষ কথা কিভাবে সাজাতে হয়
আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম কিভাবে লিখতে হয়
একটি আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলের
টাইটেল অথবা শিরোনাম । একজন পাঠককে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আকর্ষণ করে বা পড়ার
আগ্রহ তৈরি করে। সুন্দর একটি টাইটেল অথবা শিরোনাম পাঠককে আর্টিকেলটি পড়তে
উৎসাহিত । করে সুতরাং টাইটেল অথবা শিরোনাম লেখার সময় এমনভাবে লিখবেন যেন পাঠ
করার আগ্রহ করে ।
আর্টিকেল বা পোস্ট টাইটেল লোভনীয় করে লিখতে হবে পাঠক যেন দেখার সাথে সাথে থেমে
যায় এবং আপনার পোষ্টের মধ্যে ক্লিক করতে বাধ্য হয় নিম্নে দেওয়া এমন শব্দ
ব্যবহার করতে পারেন যেমন কার্যকরী গোপনীয়তা ১০টি টিপস ইত্যাদি পাঠকদের মনে যেন
কৌতুহল তৈরি করে কেমন ব্যবহার করবেন এবং পোস্ট টাইটেল এর মধ্যে < ? -
> এগুলো চিহ্ন ছাড়া অন্য কোন জাতীয় চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না
আর্টিকেলের শুরুতে ভূমিকা বাটন কেন ব্যবহার করবেন
একটি আর্টিকেলের শুরুতেই যদি পাঠক প্রয়োজনীয় আরো রিলেটেড আর্টিকেল বা পোস্ট
পেয়ে যায় । তাহলে তার আগ্রহ আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যেই ধরে রাখা সম্ভব হবে ।
এজন্য পাঠকের সুবিধার জন্য পোস্ট বা আর্টিকেলের শুরুতে একটি ভূমিকা বাটন ব্যবহার
করবেন । শুধু ভূমিকা বাটন ব্যবহার করলেই হবে না ভূমিকা বাটনের দিয়ে পাঠকদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে । পাঠক যেন সেই পোস্ট বা আর্টিকেলের মধ্যে ক্লিক করতে
বাধ্য হয়।
আর্টিকেল বা পোষ্টের শুরুতে শুধুমাত্র একটা ভূমিকা বাটন বানাতে হবে। এবং সেই
ভূমিকা বাটনের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় শব্দ ব্যবহার করবেন। এর বেশি শব্দ ব্যবহার
করবেন না ।ভূমিকা বাটনের মধ্যে অন্য রিলেটেড পোস্ট এর ফোকাস কিওয়ার্ড ভূমিকা
বাটনে ব্যবহার করবেন। যেন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভূমিকা বাটন কালার হবে আপনার
ওয়েবসাইটের থিমের মেন কালার টি ভূমিকা বাটনে ব্যবহার করবেন।
আর্টিকেলের মেটা ডেসক্রিপশন কি? এবং কতটুকু লিখবেন
মেটা ডেসক্রিপশন হলো একটি আর্টিকেলের বা পোস্টের সংক্ষিপ্ত পরিচয় । মেটা
ডেসক্রিপশন একটি পোস্টের মধ্যে কি কি বিষয় বলা হয়েছে বা আলোচনা করা হয়েছে এবং
আর্টিকেল বা পোস্টটি কেন পড়বেন। তা পাঠকদের আগে থেকে বুঝতে সাহায্য করে ।
সুন্দরভাবে মেয়েটা ডেসক্রিপশন লেখা থাকলে পাঠক সেই পোস্টটি পুরো পড়ার জন্য
আগ্রহ করে।
আরো পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় পেমেন্ট বিকাশ এ মাসে ১৫০০০ টাকা
মেটা ডেসক্রিপশন সাধারণত ছোট হয় ।একটি পোস্ট বা আর্টিকেলের মেয়েটা ডেসক্রিপশন
মোট চার লাইন লিখবেন । এবং এই চার লাইন মেটা ডেসক্রিপশন এর মধ্যে একটি ফিচার ইমেজ
ব্যবহার করবেন। ভূমিকা বাটন এর নিচে এবং ফিচার ইমেজের উপরে দুই লাইন লিখবেন ।
আর্টিকেলের পেজ সূচিপত্র সাজানোর নিয়মঃ
একটি আর্টিকেল বা পোষ্টের জন্য পেজ সূচিপত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ । একজন পাঠক
সূচিপত্রের মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝতে পারবে আর্টিকেল বা পোস্ট এর ভেতরে কোন কোন
বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবং কোন অংশে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে একটি
আর্টিকেল যত সুন্দর ভাবে লেখা হোক না কেন যদি সেটা অগোছালো থাকে তাহলে পাঠকের
আগ্রহ ধরে রাখা ঠিক হয় না ।আর একটি আর্টিকেল বা পোস্টকে গুছিয়ে রাখার জন্য পেজ
সূচিপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একটি পেজ সূচিপত্র সুন্দর এবং সাজিয়ে রাখার জন্য আমাদের যে বিষয়গুলো জানার
প্রয়োজন সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
- পেজ সূচিপত্র ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে লিখতে হবে।
- ফোকাস কিওয়ার্ডের নিচে বা অনলাইন হেডিং ব্যবহার করবেন অর্থাৎ একটি আর্টিকেল পোস্ট। এর পেজ সূচিপত্রে ১২টা বিষয়ে ব্যবহার করবেন।
- প্রথম হেডিং ফোকাস দিয়ে লিখবেন।
আর্টিকেলের হেডিং সাজানোর নিয়মঃ
একটি আর্টিকেল বা পোস্টে শুধু তথ্যবহুল লেখা যথেষ্ট না । আচ্ছা আপনি এখন
চিন্তা করে দেখেন আপনি যখন কোন আর্টিকেল বা পোস্ট পড়া শুরু করেন । তখন কিভাবে
বুঝতে পারেন আপনি যে অংশটুকু করতেছেন সেই অংশের কোন বিষয় আলোচনা করা হয়েছে ।
তখন অবশ্যই হেডিং দেখে বুঝতে পারেন তাহলে এবার ভাবেন একটি আর্টিকেল বা পোস্টের
জন্য হেডিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি আর্টিকেল হল একটি গল্প বা হেডিং হলো
সেই গল্পের মূল খুঁটি।
একটি আর্টিকেল বা পোস্ট এর হেডিং সাজানোর সময় আমাদের কোন কোন বিষয় মাথায় রেখে
সাজাতে হবে চলুন সে বিষয়ে আলোচনা করি । প্রথমেই বলি একটা হেডিং কত শব্দের মধ্যে
লেখা উচিত সবসময় একটা হেডিং ৫ থেকে ৮ শব্দের মধ্যে লিখার চেষ্টা করবেন ।
এরপর প্রতিটি হেডিং এর নিয়ে সর্বনিম্ন দুইটি প্যারা লিখতেই হবে । এবং প্রতিটি
হেডিং এর সর্বোচ্চ ৫ প্যারা নিয়ে লেখা যাবে কখনো ৫টি পেরার বেশি নিয়ে লিখবেন
না।
আর্টিকেলের প্যারা কিভাবে লিখবেন কত লাইন লিখবেন
একটি আর্টিকেল বা পোস্ট সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপনা করার জন্য
প্যারাগ্রাফ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেকটি প্যারাগ্রাফ হলো ছোট ছোট
গল্পের মত। যদি প্যারাগ্রাফগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে না লেখা হয় ।তাহলে পাঠকরা
বিস্তারিত করতে পারে না সেজন্য প্রতিটি প্যারাগ্রাফ সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে
লিখতে হবে যেন পাঠকরা কোন বিভ্রান্ত না হয়।
আরো পড়ুনঃ আর্টিকেল লিখে টাকা ইনকাম
একটি আর্টিকেল বা পোস্ট এর প্যারাগ্রাফ সুন্দরভাবে সাজিয়ে লেখার জন্য যে যে
বিষয়গুলি জানতে হবে নিম্নে দেওয়া হলঃ
- আর্টিকেলের প্রত্যেকটি প্যারাগ্রাফ সর্বনিম্ন সাড়ে তিন লাইন লিখবেন ।সাড়ে তিন লাইনের কম লিখা যাবে না।
- প্রতিটি প্যারাগ্রাফ এর নিচে সর্বোচ্চ পাঁচ লাইন লিখবেন
- প্রতিটি প্যারাই সংক্ষেপে বোঝানোর চেষ্টা করবেন।
কিভাবে পোস্ট ফরমেটিং করবেন
বর্তমান সময়ে তথ্য শেয়ার করা খুব সহজ হলেও পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা অনেক
চ্যালেঞ্জিং বিষয়। পোস্ট ফরমেটিং মানে শুধু ফোন বা রং ব্যবহার করা না । পোস্ট
ফরমেটিং করে আপনি শুধু মাত্র আপনার পোস্ট আর্টিকেল সুন্দরভাবে তৈরি করছেন না। বরং
পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে পারছেন পোস্ট ফরমিটিং একটা হাতিয়ার যা আপনার পোস্ট বা
আর্টিকেলকে পাঠকদের আকর্ষণ করে।
আর্টিকেল বা পোস্ট পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নিচে পোস্ট ফর মিটিং করার
সঠিক গাইডলাইন তুলে ধরা হলোঃ
- একটি পোষ্টের মধ্যেও অগোছালো ফোন অযথা বোল্ট অযথা কালার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন ।
- পোষ্টের সবগুলো লেখা সব সময় জাস্টিফাই ফরমেট করে রাখবেন ।
- বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পোস্টের মধ্যে ইতালিক ডিজাইন ব্যবহার করবেন না ।
- প্রতিটি পোস্ট বা আর্টিকেলের মধ্যেও তিনটা করে রাখবেন ।
আর্টিকেলের শেষ কথা কিভাবে সাজাতে হয়
অনেক আর্টিকেল রাইটার আছে যারা শুরুর কথাগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়েছে লিখতে পারলেও
। আর্টিকেল লেখার শেষে এসে দ্বিধায় পড়ে যায়। আর্টিকেলের শেষ কথা সুন্দরভাবে
সাজিয়ে লিখতে পারেনা । একটি আর্টিকেলের শুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ এবং শেষ কথাটিও
তেমনি গুরুত্বপূর্ণ । কারণ একজন আর্টিকেল রাইটার শেষ কথার মধ্য এসে তার আর্টিকেল
এর পুরো বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে । আর্টিকেলের শেষ কথা কিভাবে সাজিয়ে
লিখতে হয় প্রতিটি লেখকের জানা জরুরী ।
আর্টিকেলের শেষ কথা সাজানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিচে দেওয়া হলঃ
- শেষ কথা বসাতে হবে ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে ।
- সর্বনিম্ন দুইটা প্যারা দিয়ে শেষ কথা লিখবেন ।
- দুইটা প্যারার মধ্যেও প্রথম প্যারায় পুরোপুরি আর্টিকেল সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে লিখবেন এবং দ্বিতীয় প্যারায় নিজের মতামত দিবেন ।
আর্টিকেল কখন লিখবেন এবং পাবলিশ করবেন
একটি পোস্ট আর্টিকেল লেখার সবচেয়ে ভালো সময় হলো ।ভোর ৪ থেকে সাড়ে ৭ পর্যন্ত
কারন এই সময় আপনার মন মাইন্ড সবকিছু ফ্রেশ থাকে। আপনি এ সময়টাতে যতটুকু কাজ
করবেন এবং আর্টিকেল লিখবেন সারাদিনও আপনি এতোটুকু কাজ করতে পারবেন না ।কারণ এই
সময়টাতে সবকিছু চুপচাপ থাকে কোলাহলমুক্ত থাকে । নিরিবিলি কাজ করা যায় কিন্তু
আপনি যদি দিনে আর্টিকেল লিখতে বসেন তাহলে চুপচাপ নিরিবিলি পরিবেশটা পাবেন না।
আরো পড়ুনঃ লেখালেখি করে মাসে ৭০০০০ টাকা ইনকাম ।
এজন্য চেষ্টা করবেন ভোর ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সময়টাতে লেখার জন্য। এবং আপনি যখনই
আর্টিকেল লেখা শুরু করবেন তখন নিরিবিলি কোন জায়গায় বসে কাজ করবেন । এবং
প্রতিটি পোস্ট সর্বনিম্ন ১৫০০ শব্দের লিখবেন ।পোস্ট পাবলিক করার সময় নিম্মে
উল্লেখ করা হলোঃ
সকাল ৯ঃ০০ থেকে ১০ টা পর্যন্ত ।
দুপুর ৩ঃ০০ থেকে ৪ঃ০০ টা পর্যন্ত ।
রাত ৯ঃ০০ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত ।
লেখকের মন্তব্য
এসইও আর্টিকেল লিখে ইনকাম করা সম্ভব। সঠিক গাইডলাইন পরিকল্পনা প্রতিনিয়ত
প্র্যাকটিস এর মাধ্যমে একজন মানসম্মত সফল আর্টিকেল রাইটার হওয়া যায়। বর্তমান
সময়ে একজন মানসম্মত আর্টিকেল রাইটার অনেক কঠিন বিষয় ।শুরুতে ভুল হবে এটাই
স্বাভাবিক কিন্তু ভয় না পেয়ে প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস বা লেখালেখির অভ্যাস গড়ে
তুলুন। আস্তে আস্তে একদিন আপনি নিজেই একজন মানুষের মতো দক্ষ আর্টিকেল রাইটার
হিসেবে গড়ে উঠবেন। সেজন্য অলসতা করে ঘরে বসে না থেকে সঠিক গাইডলাইন মেনে চেষ্টা
করতে থাকুন।

মিলন বিডি ওল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url