নিম পাতা দিয়ে চুলকানি নিরাময়ের কৌশল
চুলকানি একটি অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর সমস্যা। চুলকানির কারণ হতে পারে অ্যালার্জি ফাঙ্গাল ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়া ঘামাচি একজিমা স্ক্যাবিস বা ত্বকের শুষ্কতা। আধুনিক চিকিৎসায় নানা ধরনের ওষুধ থাকলেও অনেক মানুষ এখনো প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর ভরসা করেন। এসব প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে নিম পাতা চুলকানি নিরাময়ে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও পরীক্ষিত উপাদান।
পেজ সূচিপত্রঃ নিমপাতা দিয়ে চুলকানি নিরাময়ের কৌশল
- চুলকানি কী এবং কেন হয়?
- চুলকানির সাধারণ কারণ ।
- নিম পাতা প্রাকৃতিক ওষুধের এক আশ্চর্য উপাদান ।
- নিম পাতার প্রধান গুণাগুণ ।
- নিম পাতা দিয়ে চুলকানি নিরাময়ের কার্যকর কৌশলসমূহ ।
- নিম পাতার বাটা পেস্ট ব্যবহার ।
- উপকারিতা ।
- শেষ কথা ।
চুলকানি কি এবং কেন হয়
এই লেখায় আমরা জানব নিম পাতার গুণাগুণ, চুলকানির কারণ, এবং কীভাবে বিভিন্ন উপায়ে নিম পাতা ব্যবহার করে চুলকানি নিরাময় করা যায়।চুলকানি হলো ত্বকের এমন একটি অনুভূতি যেমন গরুর মাংস এবং হাঁসের ডিম খেলে চুলকানি বেড়ে যেতে পারে যেখানে চামড়া আঁচড়াতে ইচ্ছে করে। এটি নিজে কোনো রোগ নয় বরং বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ।
চুলকানির সাধারণ কারন
- ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ
- অ্যালার্জি খাবার, কাপড় কেমিক্যাল
- ঘাম ও ময়লা জমে থাকা
- খোসপাঁচড়া
- একজিমা ও সোরিয়াসিস
- ত্বকের শুষ্কতা
- পোকামাকড়ের কামড়
- অপরিষ্কার পরিবেশ
নিম পাতা প্রাকৃতিক ওষুধের এক আশ্চর্য উপাদান
নিম পাতা একটি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ। ভারতীয় উপমহাদেশে হাজার বছর ধরে নিম পাতা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।এই গুণাগুণের কারণে নিম পাতা ত্বকের চুলকানি ফুসকুড়ি দাদ একজিমা ইত্যাদি সমস্যায় অত্যন্ত উপকারী।
নিম পাতা গরম পানি করে গোসল করলে শরীরের চুলকানি এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া
থেকে রোগ মুক্ত হওয়া যায় । এবং নিম গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করলে মুখে
দুর্গন্ধ দূর হয় এবং জীবাণুমুক্ত হয় দাঁতের অনেক উপকার হয় ।
আরো পড়ুনঃ ৭ দিনে চুলকানি থেকে মুক্তি
নিম পাতা দিয়ে চুলকানি নিরাময়ের কার্যকর কৌশলসমূহ
নিমপাতা দিয়ে চুলকানি নিরাময়ের কার্যকর প্রধান কৌশল হল নিমপাতা দিয়ে
গোসল করা । নিমপাতা দিয়ে গোসল করলে শরীরের চুলকানি খসড়া ব্যাকটেরিয়া
দূর হয়। কাঁচা এবং টাটকা নিমপাতা একমত নিয়ে পানিতে দিয়ে গরম করে গরম
পানি দিয়ে গোসল করলে চুলকানি থেকে আরোপ পাওয়া যায়
এবং বেশি চুলকানি হলে নিম পাতার প্রলেপ করে দিলে এবং শরীরের মাখলে
চুলকানি থেকে অনেক মুক্ত হওয়া। যায় তাতেও যদি চুলকানি না কমে তাহলে
ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
নিম পাতার বাটা পেস্ট ব্যবহার
যদি চুলকানি নির্দিষ্ট কোনো স্থানে হয় তাহলে নিম পাতার পেস্ট খুব কার্যকর।
- তাজা নিম পাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিন
- শিলপাটা বা ব্লেন্ডারে বেটে পেস্ট তৈরি করুন
- চুলকানির স্থানে পাতলা করে লাগান
- ২০-৩০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
উপকারিতা
নিম পাতা ব্যবহারে দাদ ও ফাঙ্গাল সংক্রমণ দূর করে লালচে ভাব ও ফোলা কমায় । দ্রুত চুলকানি প্রশমিত করে । দিনে ১ বার ব্যবহার করা যেতে পারে। নিম পাতা ব্যবহার করলে কোন ধরনের ক্ষতিকারক ইফেক্ট পড়ে না । কিন্তু নিয়মমাফিক ব্যবহার করতে হবে নিয়মের বেশি ব্যবহার করা যাবে না ।
শেষ কথা
নিম পাতা চুলকানি নিরাময়ের একটি প্রাকৃতিক, নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার মূল কারণ দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চুলকানি থেকে আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে যেকোনো প্রাকৃতিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেই ধৈর্য ও নিয়মিত ব্যবহার জরুরি।

মিলন বিডি ওল্ড নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url